হাঁটুর ব্যথা অবহেলা করলে কী হতে পারে? একটি বাস্তব রোগীর এক্স-রে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন

Knee-joint-Pain-stage-4-ostoartharitics-patient-case

হাঁটুর ব্যথা চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু করা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন হাঁটুর ব্যথা অবহেলা করলে এমন একটি পর্যায় আসতে পারে, যখন সাধারণ চিকিৎসায় আর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

এই আর্টিকেলে আমরা একজন রোগীর বাস্তব এক্স-রে বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখবো, কীভাবে হাঁটুর ক্ষয় ধীরে ধীরে গ্রেড ৪ অস্টিওআর্থ্রাইটিস পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং কেন এই পর্যায়ে চিকিৎসার বিকল্প অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়।

এই কেসটি বিশ্লেষণ করেছেন ডা. এমডি জিয়াউল হাসান, অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল (NITOR)।

বাস্তব রোগীর এক্স-রে: কী দেখা গেছে?

একজন রোগীর দুই হাঁটুর এক্স-রে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, তাঁর হাঁটুর জয়েন্টে মারাত্মক ক্ষয় হয়েছে। বিশেষ করে হাঁটুর মাঝের যে অংশটি স্বাভাবিকভাবে নরম কুশনের মতো কাজ করে, সেটি প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এক্স-রেতে প্রধান যে বিষয়গুলো দেখা যায়:

  • দুই হাঁটুতেই গুরুতর ক্ষয়
  • হাঁটুর মাঝের ফাঁকা জায়গা প্রায় নেই
  • অতিরিক্ত হাড় (Osteophyte) তৈরি হয়েছে
  • হাঁটুর আকৃতি বেঁকে গেছে
  • হাড়ের সঙ্গে হাড়ের সরাসরি ঘর্ষণ হচ্ছে

এই অবস্থাকে গ্রেড ৪ বা স্টেজ ৪ অস্টিওআর্থ্রাইটিস বলা হয়, যা হাঁটুর ক্ষয়ের সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়।

সাধারণভাবে এটি চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়:

 

গ্রেড ১

সবচেয়ে প্রাথমিক পর্যায়। সাধারণত ব্যায়াম, ওষুধ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়।

গ্রেড ২

কার্টিলেজের কিছু ক্ষয় শুরু হয়। এই পর্যায়েও অনেক ক্ষেত্রে ব্যায়াম, ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হাঁটুর ব্যথা চিকিৎসা করা সম্ভব।

গ্রেড ৩

ক্ষয় অনেকটা বেড়ে যায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ব্যায়াম ও অন্যান্য চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।

গ্রেড ৪

কার্টিলেজ প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং হাড়ের সঙ্গে হাড়ের ঘর্ষণ শুরু হয়। এই পর্যায়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রোগীর অবস্থা, ব্যথার মাত্রা এবং এক্স-রের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।

কেন এই রোগীর ব্যথা এত বেশি ছিল?

why his keen joint was always so painful- doctor described

এই রোগীর এক্স-রে থেকে দেখা যায় যে, হাঁটুর জয়েন্টে প্রায় কোনো স্বাভাবিক ফাঁকা জায়গা অবশিষ্ট নেই।

এর অর্থ হলো, হাঁটার সময় হাড়ের সঙ্গে হাড়ের সরাসরি ঘর্ষণ হচ্ছে।

এছাড়া জয়েন্টের চারপাশে অতিরিক্ত হাড় (osteophyte) তৈরি হয়েছে, যা হাঁটুর স্বাভাবিক গঠনকে পরিবর্তন করে দেয়। এ কারণেই অনেক রোগীর হাঁটু ধীরে ধীরে বেঁকে যেতে পারে।

হাঁটুর ব্যথা চিকিৎসা: কোন পর্যায়ে কী করা যায়?

এই কেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো— সব ধরনের হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসা এক রকম নয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে (গ্রেড ১ ও ২) অনেক রোগীর ক্ষেত্রে:

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • ওষুধ
  • জীবনযাত্রার পরিবর্তন

— এসবের মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া যায়।

গ্রেড ৩ পর্যায়ে চিকিৎসা রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে।

কিন্তু গ্রেড ৪ পর্যায়ে পৌঁছে গেলে, যখন কার্টিলেজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং হাঁটু বেঁকে যায়, তখন অনেক ক্ষেত্রে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট (Joint Replacement) (হাঁটু প্রতিস্থাপন) বিবেচনা করতে হয়।

কখন দেরি হয়ে যেতে পারে?

এই রোগীর কেসটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়।

যদি দীর্ঘদিন হাঁটুর ব্যথা থাকে এবং ধীরে ধীরে:

  • হাঁটতে কষ্ট বাড়ে
  • হাঁটু বেঁকে যায়
  • ব্যথা খুব তীব্র হয়ে যায়
  • সাধারণ চিকিৎসায় আরাম না মেলে

তাহলে দেরি না করে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সময়মতো রোগ নির্ণয় করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে গ্রেড ৪ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

হাঁটুর যত্নে কী করবেন?

ডা. এমডি জিয়াউল হাসানের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁটুর যত্নে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:

  • নিয়মিত হাঁটুর ব্যায়াম করুন
  • হাঁটু ভাঁজ করে দীর্ঘ সময় নিচে বসা কমান
  • অপ্রয়োজনীয় সিঁড়ি ওঠানামা কমান
  • উঁচু-নিচু রাস্তায় অতিরিক্ত হাঁটা এড়িয়ে চলুন
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণের বিষয়ে সচেতন থাকুন

এই কেস থেকে আমাদের কী শেখা উচিত?

হাঁটুর ব্যথা সবসময় একই ধরনের সমস্যা নয়।

এই বাস্তব এক্স-রে কেসটি দেখায় যে, দীর্ঘদিন হাঁটুর ক্ষয় অবহেলা করলে এমন একটি পর্যায় আসতে পারে, যখন সাধারণ চিকিৎসার সুযোগ অনেক কমে যায়।

তাই হাঁটুর ব্যথা চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, তত বেশি চিকিৎসার বিকল্প থাকে।

যদি হাঁটুর ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা হাঁটুর স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হতে শুরু করে, তাহলে একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক সম্পর্কে: ডা. এমডি জিয়াউল হাসান

Dr MD Ziaul Hasan - Orthopedic and Spine Specialist doctor in Dhaka

ডা. এমডি জিয়াউল হাসান একজন Spine, Orthopedic & Trauma Specialist & Surgeon

তিনি বর্তমানে National Institute of Traumatology and Orthopedic Rehabilitation (NITOR) (Pongu Hospital)-এ কর্মরত।

যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ:

  • MBBS
  • BCS (Health)
  • MS (Ortho)
  • FACS (Ortho)
  • Fellowship in Spine Surgery, ISIC, India
  • Fellow, Minimally Invasive Spine Surgery, Mumbai
  • Fellow, Endoscopic Spine Surgery, South Korea
  • Travelling Fellow, Korean Spine Society, South Korea
  • APSS Spine Fellow, Japan
  • UMMC Spine Fellow, Malaysia

হাঁটুর ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা, অর্থোপেডিক ট্রমা এবং স্পাইন সংক্রান্ত রোগের মূল্যায়ন ও চিকিৎসায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

 

Chamber Details:

১. পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, (ইউনিট ২),
-লোকেশন: কলেজ গেইট, ১/৫, ব্লক বি, মিরপুর রোড, ঢাকা।
-সময়: শনিবার থেকে বুধবার, সন্ধ্যা ৬.৩০ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত

-যোগাযোগ: ০১৩৩৪-৬৯৭০৬৭, ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬

দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেলে আলোচিত কেসটি একটি বাস্তব এক্স-রে বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি শিক্ষামূলক কনটেন্ট। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত রোগীর ব্যক্তিগত অবস্থা, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়।